ঢাকা বিভাগসারাদেশ

মাধবদী জোনিং মডেল” অন্ধকারে আশার আলো”–নরসিংদী জেলা প্রশাসক

ইনভেস্টিগেশন রিপোর্ট: করোনা আক্রান্তের দিক থেকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, রেড জোন ঘোষিত নরসিংদীর মাধবদী পৌরসভার ( ৪ ন ও ৫ নং ওয়ার্ড)  উত্তর বিরামপুর ও দক্ষিন বিরামপুর এলাকার জোনিং কার্যক্রম সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে। প্রশাসন, আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংবাদকর্মীদের প্রত্যক্ষ নজরদারী ও সরকারী নির্দেশনা মেনে ২১দিন পার করেছে রেড জোনের বাসিন্দারা। রেড জোনিং কার্যক্রম বাস্তবায়নের ফলে প্রায় শতভাগ সফলতার দাড়প্রান্তে নরসিংদী জেলা প্রশাসন।

রেড জোন পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক এলাকার বাসিন্দাদের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরন করেন এবং তাদেরকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহবান জানান। সরকার নির্দেশিত কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহযোগীতা করায় তিনি এলাকার জনগণকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) করোনা ভাইরাস প্রতিরোধকল্পে উত্তর বিরামপুর ও দক্ষিন বিরামপুর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাস্তবায়িত কার্যক্রমের ফলপ্রসূ সমাপ্ত হওয়ায় মাধবদী পৌরসভা কার্যালয়ে মূল্যায়ন সভা ও প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। মাধবদী জোনিং মডেল” অন্ধকারে আশার আলো”  প্রেস ব্রিফিংকালে মন্তব্য করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন।

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের আহবানে সাড়া দিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ, সাংবাদিকগণ ও স্থানীয় জনগণ  সহমর্মিতা, পরমর্মিতা, দেশপ্রেম ও মানবপ্রেমে বলীয়ান হয়ে “অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা জোনিং মডেল” সফল করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

প্রেস ব্রিফিং এ জেলা প্রশাসক মাধবদী পৌরসভার ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষিত এলাকায় পূর্বের এবং বর্তমানের করোনা সংক্রমনে প্রতিরোধে জোনিং কার্যক্রমের সাফল্যের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন,  নরসিংদী জেলার মাধবদী পৌরসভার লকডাউনকৃত ঝুঁকিপূর্ণ ৪ ও ৫ নং ওয়ার্ড এ বিগত ২১ দিন ধরে মানুষের মধ্যে যে সুঅভ্যাসগুলো গড়ে উঠেছে তা বহাল রাখতে হবে। বিগত ২১ দিনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় করোনা আক্রান্তের হার ২২% থেকে ৫ % নেমে এসেছে এবং আগামী ৫ জুলাই আক্রান্তের হার শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে। করোনা প্রতিরোধে জেলা প্রশাসনের নিজস্ব চিন্তায় গড়া ইমার্জেন্সি সেল ও কুইক রেসপন্স টিম দেশজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে। করোনা প্রতিরোধে নরসিংদী জেলা প্রশাসন এর তৈরি SOP বিভাগীয় কমিশনার কর্তৃক অনুমোদিত হয় যা পরে পাইলট প্রকল্পের আওতায় নরসিংদী, নারায়নগঞ্জ ও গাজীপুরে বাস্তবায়ন করা হয়।

তিনি আরো বলেন, করোনা প্রতিরোধে মাধবদী পৌরসভার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লকডাউন বাস্তবায়নে ১১ টি দপ্তর সুসমন্বিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। ঈদ উল আজহায় রেড জোন এলাকায় কোরবানি পশুর হাটের আয়োজন করা যাবে না। খুব শীঘ্রই জেলা প্রশাসন, নরসিংদী অনলাইনে গরু কেনা বেচার জন্য “ অনলাইন গো হাট” চালু করবে।

করোনা পরীক্ষার জন্য জেলা প্রশাসন, নরসিংদী বেসরকারি উদ্যোগে ল্যাব টেকনিশিয়ান নিয়োগ দেয় এবং তাদের নাম মন্ত্রণালয়ের পাঠানো হলে তাদেরকে স্থায়ী ভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। লকডাউন বাস্তবায়নে নিয়োজিত সকল সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের তিনি ধন্যবাদ জানান।

প্রেস ব্রিফিং এর আগে মূল্যায়ন সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য্ রাখেন নরসিংদী জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন। বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য্য রাখেন নরসিংদীর  অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলাল আহাম্মেদ, নরসিংদী জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ ইব্রাহিম টিটন , নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাছলিম আক্তার, নরসিংদী সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও কুইক রেসপন্স টিমের প্রধান মোঃ শাহ  আলম মিয়া। মাধবদী পৌরসভার মেয়র হাজী মোঃ মোশাররফ হোসেন প্রধান মানিক এর সভাপতিত্ব সভায় বক্তব্য রাখেন নরসিংদী চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট আলহাজ্ব  আলী হোসেন শিশির ( সি আইপি), মাধবদী পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলার শেখ ফরিদ, ৫ নং কাউন্সিলার হেলালউদ্দীন, লক ডাউন এলাকার বাসিন্দা নূরে মদিনা ডাইং এর এম, ডি আলহাজ মামুন মিয়া।

এসময় উপস্হিত ছিলেন বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর ক্যাপ্টেন মোঃ ফেরদৌস মিয়া, মাধবদী প্রেসক্লাবের সভাপতি আলহাজ্ব জসিম উদ্দীন ভুইয়া ভিপি জসিম, সাধারন সম্পাদক হোসেন আলী, বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী আলহাজ্ব মোঃ মোমেন মোল্লা, আলহাজ্ব কাজিম উদ্দীন, আলহাজ্ব জাকির হোসেন ভুইয়া, আলহাজ্ব কাউয়ুম মোল্লা প্রমূখ।

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button