জাতীয়

মাদরাসা শিক্ষকের আড়ালে জঙ্গি কার্যক্রম, ৬ জেএমবি সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব

ইনভেস্টিগেশন রিপোর্ট : ঢাকার সাভারের ভাটপাড়া এলাকা থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) ৬ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।

গ্রেফতাররা হলেন, মো. ওমর ফারুক ওরফে রুবেল ওরফে সানী, মো. সাইদুর রহমান ওরফে সাইদুর, মো. মাহবুবুর রহমান ওরফে দুদু, মো. শফিকুল ইসলাম ওরফে শফিক, মো. হাবিবুর রহমান ওরফে বাদশা ও মো. গোলাম মোস্তফা।

রোববার র‍্যাব-৪ এর অ্যাডিশনাল ডিআইজি মোজাম্মেল হক এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে জেএমবির বিভিন্ন ধরনের উগ্রবাদী বই, লিফলেট, সাময়িকী, ডিজিটাল কনটেন্টসহ মোবাইল, টর্চ লাইট, ট্রাভেলস ব্যাগ, নিত্য ব্যবহার্য জামা-কাপড় উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা জেএমবির সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। গ্রেফতার মো. ওমর ফারুক প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাদরাসা শিক্ষক হিসেবে কর্মরত বলে জানিয়েছেন। একপর্যায়ে জামালপুর জেলার ঘোড়াধাপ এলাকার জেএমবির শীর্ষস্থানীয় নেতা মো. হাবিবুর রহমানের সঙ্গে পরিচয় হয় এবং তাকে জেএমবির দাওয়াত দেয়।

মোজাম্মেল হক আরো বলেন, ওমর ফারুক সংগঠনের যোগাযোগ করার প্রয়োজনে শীর্ষস্থানীয় এক জেএমবি নেতার কাছ থেকে বিভিন্ন এনক্রিপটেড সফটওয়্যার ও মোবাইল অ্যাপস সম্পর্কে শিক্ষা নেয়। বর্তমানে সংগঠনের সক্রিয় সদস্যদের মধ্যে অন্যতম। তিনি পাঁচ বছর ধরে জেএমবির সঙ্গে জড়িত। তার মোবাইল থেকে জেএমবির বর্তমান কার্যক্রম সম্বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে তিনি জেএমবির অনলাইন গোপনীয় গ্রুপের মাধ্যমে পরিচিত হন এবং নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছিলেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল থেকে বিভিন্ন উগ্রবাদী ডিজিটাল কন্টেন্ট পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, গ্রেফতার মো. হাবিবুর রহমান বর্তমানে জামালপুর সদর থানার ঘোড়াধাপ এলাকায় জিএমবির নেতৃত্বে ছিলেন। তিনি ১০ বছর ধরে জেএমবির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত বলে জানা যায়। হাবিবুর রহমান ও তার সহযোগীরা গোপনে মোটিভেশনাল কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।

একইভাবে মো. সাইদুর রহমান জামালপুর সদরের জেএমবির সক্রিয় সদস্য। প্রায় ১৯ বছর ধরে তিনি জেএমবির সঙ্গে সক্রিয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধির কারণে গোপনে জেএমবিকে আরো শক্তিশালী করার জন্য নতুন সদস্য সংগ্রহ ও অসচ্ছল সদস্যদের মনোবল ধরে রাখতে বিভিন্ন সময় আর্থিক সহায়তা করতেন তিনি। এছাড়া মো. সাইদুর রহমান জেএমবি সদস্যদের নিয়ে নিয়মিত গোপন মিটিং করত বলে জানিয়েছেন মোজাম্মেল হক।

এদিকে গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন র‍্যাব-৪ এর অ্যাডিশনাল ডিআইজি মোজাম্মেল হক।

পিএনএস/এএ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button