আন্তর্জাতিক

চীনকে ঠেকাতে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করলো ভারত

ইনভেস্টিগেশন ডেস্ক : শ্রীলঙ্কায় নানা কারণে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার করেছে চীন। করোনাভাইরাসের এই মহামারির সময়ে অর্থনৈতিক সংকট দূর করতে শ্রীলঙ্কার পাশে দাঁড়িয়ে আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছে ভারত। এরই ধারাবাহিকতায় ৪০০ মিলিয়ন ডলারের মুদ্রা বিনিময় সুবিধা দেওয়া হয়েছে কলম্বোকে।

রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া এবং সেন্ট্রাল ব্যাংক অব শ্রীলঙ্কার এই মুদ্রা চুক্তি ভবিষ্যতে ভারত থেকে লোন নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সুবিধা দেবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী দিনে লোনে সুদের হার ওঠানামার ঝুঁকি অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সপ্তাহের শুরুর দিকে, দুই দেশের সরকারের পক্ষে শ্রীলঙ্কার ৮৪০ মিলিয়ন ডলার ধার ভারতকে মিটিয়ে দেওয়ার জন্য আলোচনা হয়েছে। জানা গেছে, ভারতকে ধার মেটানোর দিনক্ষণ পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়ে পরবর্তী আলোচনা জন্য অনুরোধ জানিয়েছে রাজপক্ষ সরকার।

শ্রীলঙ্কায় ভারতের হাই কমিশন জানিয়েছে, এ রকম প্রচেষ্টা আগামী দিনেও চলতে থাকবে। নয়া দিল্লির পক্ষে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও নেওয়া হবে। তবে অতিমারি থেকে মুক্তি পেতে নেওয়া হবে নানা পদক্ষেপ।

লাদাখে চীনের সঙ্গে সংঘাতের ঢের আগে থেকেই ভারত মহাসাগরে চীনের গতিবিধিতে উদ্বিগ্ন ভারত। মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, ইরান এবং পূর্ব আফ্রিকার বিভিন্ন বন্দরে তাদের উপস্থিতি শুধুমাত্র ভারতের ক্ষেত্রেই নয়, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড, ফরাসি ও ব্রিটিশ নৌ-বাহিনীর কাছেও তা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তা সামাল দিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে চীন বিরোধী চতুর্মুখী গোষ্ঠী গড়ে তুলতে উদ্যোগী হয়েছে ভারত।

২০০৪ সালে ২৬ ডিসেম্বর ভয়াবহ সুনামি আছড়ে পড়েছিল ভারত মহাসাগারে। সেই সুনামিকেই কোয়াড বা চতুর্ভুজিও উদ্যোগের উৎস হিসাবে গণ্য করা হয়ে থাকে।

দুর্যোগে বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, ইন্দোনেশিয়া ও সংলগ্ন এলাকায় সুনামির প্রায় এক ঘন্টার মধ্যেই গিয়ে পৌঁছায় ভারতের জাহাজ, হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমান। এর ফলে ওই এলাকায় ভারতীয় নৌবাহিনীর উপর আস্থা বৃদ্ধি হয়। কিন্তু, উল্লেখযোগ্য বিষয় হল সুনামির উদ্ধার ও ত্রাণে সেই সময় চিনা নৌবাহিনীর কোনও জাহাজকে সহায়তার জন্য এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি।

পিএনএস/এএ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button