আইন-আদালতজাতীয়

আত্মসাতের টাকা চার দেশে পাচার করতো সাহেদ: র‍্যাব

ইনভেস্টিগেশন রিপোর্ট : করোনা টেস্ট জালিয়াতিতে গ্রেপ্তার রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম সবচেয়ে বেশি যাতায়াত করতেন এশিয়ার চারটি দেশে। প্রতারণার মাধ্যমে সাহেদ যেসব অর্থ আত্মসাৎ করছেন সেগুলো এই দেশগুলোতে পাচার করতে পারেন বলে ধারণা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। গত ১৫ এপ্রিল সাহেদ করিমকে গ্রেপ্তারের পর তার পাসপোর্টে এই চারটি দেশে যাতায়াতের তথ্য পাওয়া গেছে। রিমান্ডে সাহেদ প্রতারণার সব বিষয় স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে র‌্যাব।

রোববার (২৬ জুলাই) রাতে এসব তথ্য জানিয়েছেন এলিট ফোর্সটির মুখপাত্র লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ।

র‌্যাব জানায়, প্রতারণার মাধ্যমে সাহেদ মানুষের কাছ থেকে যে অর্থ আত্মসাৎ করতেন সেই টাকার বড় একটা অংশ বিদেশে পাচার করেছেন। তার অফিসে অভিযানের সময় তার পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। সেখানে দেখা গেছে, সাহেদ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ছাড়াও নেপাল, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় যাতায়াত করতেন। এসব দেশে তার বিপুল অর্থ থাকতে পারে।

লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে সাহেদ তার প্রতারণার সব বিষয় স্বীকার করেছেন। মূলত অর্থ আদায়ের জন্যই তিনি প্রতারণা করেছেন। অর্থাৎ মানুষের অর্থ হাতিয়ে নেয়া তার মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল।

এর বাইরেও সাহেদ অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছে, যেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানান র‌্যাব কর্মকর্তা।

এদিকে সাহেদের অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের চার মামলার রিমান্ড শুনানির পর আদালত ২৮ দিনের এবং তার সহযোগী প্রতিষ্ঠানটির এমডি মাসুদ পারভেজের তিন মামলায় ২১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন বিচারক। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সাহেদ ও মাসুদকে আদালতে হাজির করে হাজতখানায় রাখা হয়। এরপর দুপুর সোয়া ১২টার দিকে রিমান্ড শুনানির জন্য আদালতে ওঠানো হয়। সাহেদের চার মামলায় ১০ দিন করে ৪০ দিন এবং মাসুদের তিন মামলায় ১০ দিন করে ৩০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ।

এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর আজাদ রহমান ও হেমায়ত উদ্দিন খান হিরন রিমান্ডের পক্ষে এবং আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট নাজমুল হোসেন, শাহ আলম ও মনিরুজ্জামান রিমান্ড বাতিল করে জামিন চেয়ে শুনানি করেন।

শুনানির একপর্যায়ে সাহেদ আদালতের অনুমতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি বিচারককে বলেন, আমি তো অন্যায় করেছি। সব অপরাধের সাথে আমি জড়িত। যারা আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছে, তাদের সব টাকা-পয়সা পরিশোধ করে দেবো। সাহেদ বলেন, গত ১২-১৩ দিন ধরে আমি কী অবস্থার মধ্যে আছি। আমি আর পারতেছি না। প্রেশারের মধ্যে আছি। আমি অসুস্থ।

এ সময় ঈদের পর রিমান্ড শুনানির তারিখ ধার্য করার প্রার্থনা জানান সাহেদ। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর সাহেদের বিরোধিতা করে বলেন, বিনা টাকায় করোনা পরীক্ষা করার কথা থাকলেও আসামি রোগীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছে। সে একজন মহাপ্রতারক। অসুস্থ না হয়েও গত ১৬ জুলাই আদালতে সে নিজেকে করোনা রোগী দাবি করে। পুলিশ তার যে রিমান্ড চেয়েছে আমরা তা মঞ্জুরের প্রার্থনা করছি।

এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে সাহেদের চার মামলায় সাত দিন করে ২৮ দিন এবং মাসুদের তিন মামলায় সাত দিন করে ২১ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

৬ জুলাই রাজধানীর উত্তরায় রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান চালায় র‌্যাব। করোনার এই দুর্যোগকালে নমুনা সংগ্রহ করা হলেও টেস্ট না করে ফলাফল দেয়া, হাসপাতাল পরিচালনার সনদের মেয়াদ না থাকাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়। পরদিন হাসপাতালটির উত্তরা ও মিরপুরের দুটি শাখা সিলগালা এবং সাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে র‌্যাব। মামলার পর সাহেদ ঢাকা থেকে পালিয়ে যান। দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করে সবশেষ সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে দেশত্যাগের চেষ্টা করেন। ১৫ জুলাই ভোরে ভারতে পালানোর সময় সাহেদকে অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরে তাকে নিয়ে উত্তরায় তার অফিসে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জাল টাকা জব্দ করা হয়।

এই ঘটনায় সাহেদের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানা মামলা হয়। করোনা নিয়ে প্রতারণার মামলাটি তদন্তের জন্য ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সেই মামলায় তারা (ডিবি) ১০ দিনের রিমান্ডে পায়। তবে রিমান্ডে থাকাকালে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় র‌্যাব। এরপর সাহেদকে চার দিন জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ পায় সংস্থাটি।

পিএনএস/এএ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button