ঢাকা বিভাগ

আমার ছেলে মেধাবী, যত্ন নিলে ভালো হতো: অপুর বাবা

প্রকাশিত প্রকাশিত :১৮:৩৩,আগষ্ট ০৪,২০২০
ইনভেস্টিগেশন রিপোর্ট : সড়কে মারামারির ঘটনায় গ্রেপ্তার টিকটক অপু প্রতিভাবান, মেধাবী। যত্ন নিলে ভালো করতো বলে দাবি করেছেন তার বাবা শহীদুল ইসলাম। রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানায় ছেলের বিষয়ে খোঁজ নিতে এসে তিনি এসব কথা বলেন।

শহীদুল ইসলাম বলেন, ওসি সাহেবের সাথে আমার আলাপ হইছে। তারা ভালো রিপোর্ট দিছে। ছেলেরে আসলে ঠিকমতো দেখাশোনা করি নাই এইজন্য এইরকম হইছে। এখন আমি জজকোর্টে যাচ্ছি, ওর জামিন হলে ওর প্রতি খেয়াল নিবো।

তিনি জানান, অপু যে ঢাকায় ছিল সেটা তিনি জানতেন না। কারণ অপু সোনাইমুড়িতে নানার বাড়ি থাকতো। অপুর মায়ের সাথে তার তালাক হয়ে গেছে ১৩ বছর আগে। সে ঘরে অপু (২০) ও অন্তর (১৬) নামে দুই সন্তান রয়েছে। পরে শহীদুল ইসলাম ফের বিয়ে করেন। তবে সোনাইমুড়ির সোনাপুরে নানা বাড়িতে অপু ও অন্তরের জন্য খরচ পাঠাতেন শহীদুল ইসলাম। পরের ঘরেও শহীদুল ইসলামের দুই সন্তান রয়েছে।

শহীদুল ইসলাম বলেন, আমি থাকি মাইজদিতে। সোনাইমুড়ি গিয়ে তাদের দেখে আসি। ঈদের আগেরদিন গেছি। ওরা বলল অপু ঢাকা চলে গেছে। আমাকে ওর নানা বাড়ির মানুষেরা বিস্তারিত জানায় নাই। গতকাল আমি শুনলাম অপুকে পুলিশ ধরছে, আমি বাস ধরেই চলে এসেছি ঢাকায়। এই যে থানা থেকে বের হলাম এখন জজ কোর্টে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, ওর নানা বাড়ির লোকেরা তার বাপের সম্পর্কে এমন কথা বলছে যে, সে আমাকে সব প্রশ্নের উত্তর দিতো না। তাই আমি জানতেই পারি নাই এতো কিছু ঘটে গেছে। তবে তার মেধা আছে, সে ভালো গান গাইতে পারে। যত্ন নিলে আরো ভালো করতো। থানার ওসি সাহেবও বলল সে কথা। ওর জামিন পাইলে আগে ওসি সাহেবের কাছে নিয়ে আসবো। তিনি যে পরামর্শ দিবেন সেটাই করবো।

জানা গেছে, শহীদুল ইসলাম ২০০৩ সালে ও ২০০৯ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করেছেন। এছাড়াও মেডিসিন ও মেডিকেল ইকুইপমেন্টের বিজনেস করতেন শহীদুল ইসলাম। মিটফোর্ডসহ পুরো ঢাকায় তার ব্যবসারক্ষেত্র ছিল। এখন ব্যবসা বাদ দিয়ে নোয়াখালীর মাইজদিতে থাকেন।

এর আগে সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরের আলাউল এভিনিউয়ের ১২ নম্বর বাড়ির পাশের সড়ক থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে উত্তরা পূর্ব থানা পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক প্রকৌশলীর সাথে মারামারির সময় তাকে স্থানীয়রা গণপিটুনিও দেয়। পরে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এদিকে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে উত্তরা পূর্ব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আদিল হোসেন জানান।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড চেয়ে অপু ও তার সহযোগীদের আদালতে পাঠানো হয়। তবে রিমান্ড নামঞ্জুর করে আদালত কারাগারে পাঠিয়েছে অপুকে।

এর আগে, দুপুরে আদালতে বিচারক অপুকে তার চুলের রংয়ের বিষয়ে জানতে চেয়ে বলেন, তোমার চুলের এই অবস্থা কেন? অপু তখন পুরো নীরব ছিলেন। কোন উত্তর দেননি। তবে তার উকিল উত্তর দিয়ে বলেন, অভিনয় করে এমন কালার করতে হয়।

প্রসঙ্গত, সোশ্যাল মিডিয়া লাইকিতে রঙিন চুলে ছোট ভিডিও করে বেশ পরিচিতি লাভ করেন অপু ভাই। এই মাধ্যমে তাকে অনুসরণ করেন প্রায় ১০ লাখ অনুসারী।

পিএনএস/এএ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button