রাজশাহী বিভাগসারাদেশ

কুড়িগ্রামে বন্যায় অর্ধশতাধিক চর প্লাবিত

প্রকাশের সময় :
August 13,2020, বিকাল 06:02 pm
আপডেট :
August 13,2020, বিকাল 06:02 pm

ইনভেস্টিগেশন রিপোর্ট : কুড়িগ্রামে আবারও সব কয়টি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে ফের বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বৃহস্পতিবার থেকে আবারও বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলা নদীর পানি ১০ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরের পর আবার পানি কমে ধরলার পানি বিপৎসীমার মাত্র ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে, পানি বেড়ে অর্ধশতাধিক চরের নিচু এলাকা আবারও প্লাবিত হয়েছে। নিমজ্জিত হয়েছে সদ্য রোপন করা রোপা আমনসহ বেশকিছু বাড়িঘর। ধরলা নদীর তীব্র ভাঙনে সদর উপজেলার সারডোব এলাকায় বিকল্প বাঁধের নতুন করে আবারও ৪ মিটার অংশ ভেঙে বিলীন হয়ে গেছে।

প্রবল নদী ভাঙন ও পানির তীব্র স্রোতে সারডোব এলাকার বাড়িঘর সরিয়ে নিচ্ছেন এলাকাবাসী। অনেক গৃহহীন মানুষ চলে যাচ্ছেন বাঁধ ও উঁচু স্থানে।

গত ৪ দিনে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নদী ভাঙনের শিকার হয়ে আরও শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়েছে। ভাঙন কবলিতদের চোখে মুখে অত্যন্ত কষ্টের ছায়া। বাড়িঘর হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন অনেক পরিবার। ওই এলাকার নুর হোসেন ও তার পরিবার ঘরবাড়ির মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন নৌকা করে।

তিনি বলেন, হামার সউগ শেষ হয়া গেল বাবা। আস্তাত যায়া উঠি, তাতো মাইনসে বাধা দেয়। কোথাও থাকার জায়গা হামার নাই। একই অবস্থা আরও অনেক পরিবারের।

গত তিন দফায় বন্যায় নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। সেসময় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বিকল্প বাঁধটির ৪০০ মিটার অংশ বিলীন হয়ে গেলে গৃহহীন হয় দুই শতাধিক পরিবার।

এ ব্যাপারে নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, পানি নেমে গেলে ৮০০ মিটার অংশ স্থায়ী তীর প্রতিরক্ষার কাজ করা হবে। তখন আর ভাঙনের সমস্যা থাকবে না। এছাড়াও জেলায় বন্যায় ৩৭ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলার ১৯টি পয়েন্টে ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করছে।

পিএনএস/এসআইআর

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button