আন্তর্জাতিক

বিশ্বে নতুন যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়িয়েছে করোনা: জাতিসংঘ মহাসচিব

প্রকাশের সময় :
August 13,2020, বিকাল 06:22 pm
আপডেট :
August 13,2020, বিকাল 06:22 pm

ইনভেস্টিগেশন ডেস্ক : মহামারি করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই ও শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকেই কেবল হুমকির মুখে ফেলেনি, চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতগুলোতেও ইন্ধন জোগাচ্ছে, বাড়িয়েছে নতুন যুদ্ধের ঝুঁকি।

বুধবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এক ভিডিও কনফারেন্সে মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এ সময় তিনি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘাতে লিপ্ত পক্ষগুলোকে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান। যাতে করোনার বিরুদ্ধে সম্মিলিত লড়াই চালানো যায়। খবর আলজাজিরা ও ডয়েচে ভেলের জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেস বলেন, করোনা মহামারি বিশ্বের চলমান সংঘর্ষগুলোর মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, অনেক জায়গায় নতুন সংঘাতের প্রেক্ষাপটও তৈরি হচ্ছে এই করোনার কারণে।

হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে সম্মিলিত পদক্ষেপ না নিলে বৈষম্য, দারিদ্র্য ও অস্থিতিশীলতা বছরের পর বছর ধরে থাকবে, তাতে বাড়বে নতুন যুদ্ধের ঝুঁকি।

করোনা মহামারির পরিস্থিতি মাথায় রেখে গত ২৩ মার্চ গুতেরেস বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছিলেন৷ তিনি বলেছিলেন, সংঘর্ষরত পক্ষগুলো দ্রুত অস্ত্রবিরতি ঘটালেই করোনা মহামারি মোকাবেলা সহজ হবে।

গুতেরেস সেই আহ্বান স্মরণ করিয়ে বলেন, কিন্তু করোনা মহামারির বাস্তবতা সংঘর্ষ ঠেকাতে পারেনি৷ যুদ্ধবিরতির লক্ষণও দেখা যায়নি বেশির ভাগ অঞ্চলে। তিনি বলেন, আমার মতে করোনা মহামারির বর্তমান কাল সংঘর্ষ বা যুদ্ধ মোকাবেলায় সবচেয়ে ভালো সময়৷ এতে করে ভবিষ্যৎ শান্তি সুনিশ্চিত হবে৷ সম্মেলনে গুতেরেসের উত্তরসূরী সাবেক জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, এটি সত্যিই দুঃখজনক যে আমরা মহামারি করোনা মোকাবেলায় কোটি কোটি মানুষকে লকডাউন করেছি, আন্তর্জাতিক সীমান্তগুলো বন্ধ করে দিয়েছি, ব্যবসা-বাণিজ্য স্থগিত রেখেছি, শিল্পকারখানা সব বন্ধ করে রেখেছি। কিন্তু এই সময়ে সশস্ত্র সংঘাতগুলো বন্ধ করতে পারিনি।

তিনি বলেন, সিরিয়া, ইয়েমেন, লিবিয়া, দক্ষিণ সুদান ও কঙ্গোতে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত সত্বর বন্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা কাউন্সিলকে ব্যবস্থা নিতে হবে। যাতে এসব দেশের মানুষ করোনা মোকাবেলায় মনোযোগ দিতে পারে। নিরাপত্তা কাউন্সিলের উচিত যুদ্ধরত পক্ষ গুলোকে এই বার্তা দেওয়াই যে, তারা যেন স্থায়ী অস্ত্রবিরতিতে গিয়ে বিশ্বের সবার শত্রু করোনার বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে।

পিএনএস/এসআইআর

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button