আইন-আদালতসারাদেশ

নীলফামারীতে ধর্ষণ চেষ্টাকারীর ছবি নিয়ে শিশুর বিচারের দাবী

ইনভেস্টিগেশন রিপোর্ট :
18 August, 2020
প্রকাশের সময় : সন্ধ্যা,07:03 pm
প্রকাশের সময় : সন্ধ্যা,07:05 pm

গত ২০ জুলাই বেলা ১১টায় নীলফামারী সদর উপজেলার চাপড়া সরনজানী ইউনিয়নের বানিয়া পাড়া গ্রামের আব্দুল লতিফের অনার্স পড়ুয়া ছেলে রাসেল (২৫) প্রথম শ্রেনির ছাত্রীকে বিস্কুটের প্রলোভন দেখিয়ে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষনের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেছেন মেয়ের মা রিনা বেগম।

এ ঘটনায় সদর থানায় রিনা বেগম বাদী হয়ে মামলাও করেন। মামলা নং-২০ জিআর নং-২১৪। ২০০০ সালের নারী ও শিশু আইনে ৯(৪)(খ) ধারা, সংশোধনী ২০০৩ এর ধর্ষনের চেষ্টার অপরাধে মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে¦ গত ১৩ আগষ্ট ঘটনাস্থলে সরেজমিনে গেলে, সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যায় রাসেলের পরিবারের লোকজন। প্রায় ঘন্টা খানেক অপেক্ষমান করলেও তাদের দেখা মেলেনি। এদিকে অভিযোগকারী রিনা বেগমের বাড়িতে গেলেই দেখা মেলে সেই ছোট্ট শিশু লামিয়া আক্তার, ঘর থেকে বেড়িয়ে আসছে একটি ছবি হাতে নিয়ে।

ছবিটির বিষয়ে জানতে চাইলে সে বলে, এটা আমার রাসেল ভাইয়ার ছবি। সে আমায় বিস্কুট ও পেয়ারা খাওয়ার কথা বলে, বুলবুলি দাদীমার বাড়িতে ডেকে নেয়। বাড়িতে কেউ না থাকায়, রাসেল ভাইয়া পড়নের কাপড় খুলে ফেলে। বাকি কথাগুলো বলতে গিয়ে সে কেঁদে ফেলে এবং ছবিটি বুকে নিয়ে বলে রাসেল ভাইয়ার বিচার চাও।

“রাসেল ভাইয়া” এই কথা কেন বলছে, জানতে চাইলে রিনা বেগম বলেন, প্রতিবেশি ভাই হলেও আমার মেয়েরা ছোট থেকে তাদের এভাবে ডাকে। অভিযোগে রিনা বেগম বলেন, ঘটনার দিন সকালে স্বামী আব্দুর রহিমকে নিয়ে ডাক্তার দেখাতে দারোয়ানী টেক্সটাইল বাজারে যাই। দুপুরের দিকে এসে শুনি এইসব ঘটনা। থানায় মামলা করেছি, আমি ইউনিয়ন মহিলা লীগের সাধারন সম্পাদক ও আইডি. আর. এস এনজিও কর্মী হিসেবে সামাজিক উন্নয়ন মুলক কাজে ব্যস্ত থাকি।

সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের নিয়ে কাজ করি। আমি আওয়ামী পরিবারের সদস্য হয়েও কি বিচার পাবোনা। রাসেল পালিয়ে থাকলেও তার পরিবারের সদস্যরা সালিশের কথা বলে বিভিন্ন লোকজন দিয়ে হুমকি-ধামকি এমনকি প্রাননাশেরও হুমকি দিয়ে আসছে তারা। রিনা বেগমের দাবী, আসামীকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে হবে।

এছাড়াও এলাকাবাসীর মধ্যে কেউ কেউ বলেন, রাসেলের শুধু এঘটনায় নয়, সে একজন নোংরা টাইপের ছেলে। তার রোসানলে বেঁচে উঠতে পারেনি একটি প্রতিবন্দি মেয়ে, তাকেও সে ধর্ষন করেছে। তার বিরুদ্ধে এলাকায় অনেক অভিযোগ, এনিয়ে অনেক বিচার সালিশও হয়।

মামলার আয়ু সাব ইন্সপেক্টর আরমান আলী জানান, রাসেলকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে, কিন্তু সে মোবাইল ব্যবহার না করায়, তাকে ট্যাকিং করা যাচ্ছে না। তবে দ্রুত গ্রেফতারের আশ্বাস দেন তিনি।

এ ঘটনার বিষয় জানতে চাইলে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রুহুল আমিন মুঠো ফোনে জানান, বিষয়টি এখন জানলাম ব্যাপারটা দেখবো।

“সুত্র পিএনএস/এসআইআর”

“ইনভেস্টিগেশন নিউজ বিডি”

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button