রাজনীতি

বিএনপির নেতৃত্বকে কবর দিতেই ২১ আগস্টের ঘটনা: গয়েশ্বর

ইনভেস্টিগেশন রিপোর্ট :
21 August, 2020
প্রকাশের সময় : সন্ধ্যা,07:40 pm
আপডেট : সন্ধ্যা,07:45 pm

বিএনপির নেতৃত্বকে কবর দিতেই ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের ঘটনা বলে দাবি করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। বলেছেন, ‘২১ আগস্টের ঘটনাটা হাসিনাকে মারার বড় চক্রান্ত – এখানেই সীমাবদ্ধ ছিল না। যদি থাকে এই চক্রান্ত ছিল সেদিন জাতীয়তাবাদী শক্তির নেতৃত্বের কবর দেয়া। এটা একটা রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে বিএনপির ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে। ওই ঘটনার প্রকৃত দোষীরা এখনো নিরাপদে বেঁচে আছে এবং ভালো আছে, তারা দেশে আছে, দেশের বাইরেও আছে।

শুক্রবার বিকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় ঢাকা জেলা বিএনপির উদ্যোগে দলের ভাইস চেয়ারম্যান সদ্য প্রয়াত আবদুল মান্নানের স্মরণে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা বিএনপির সভাপতি দেওয়ান মো. সালাহউদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাকের পরিচালনায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, নিপুণ রায় চৌধুরী, ধামরাই উপজেলা চেয়ারম্যান তমিজউদ্দিন আহমেদ ও প্রয়াত নেতার একমাত্র মেয়ে ব্যারিস্টার মেহনাজ মান্নান প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এই যে রং অ্যাপ্লিকেশন পলিটিক্সে—মিথ্যা দিয়ে সত্যকে চাপা দেওয়া, দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে সামগ্রিক রাজনীতিকে দুর্ঘটনায় ফেলা। ২১ আগস্ট এরকম ঘটনা ১/১১ এর কোন রি-অ্যারেঞ্জমেন্ট হতে পারে।

১/১১-তে কে ভিকটিম হয়েছে? বিএনপি হয়েছে, খালেদা জিয়া হয়েছে। ১/১১-তে লাভবান হয়েছে কে? শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ। তাহলে ডাউট অব দ্য বেনিফিশিয়ারি যদি বলা হয়, ১/১১ এর মাধ্যমে বেনিফিট হয়েছে বিএনপির অতি মুখোমুখি প্রতিপক্ষের।

ক্ষমতায় থাকাকালে নিজ সরকারের ভুল-ভ্রান্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মনের ইচ্ছায় অনিচ্ছায় সরকারে থাকতে ভুল-ভ্রান্তি আমাদের কিছু ছিল। যার খেসারত আজকে জনগণ দিচ্ছে, আজকে আমরা দিচ্ছি, খেসারত দিচ্ছেন তারেক রহমান, খেসারত খালেদা জিয়া দিচ্ছেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরও বলেন, যারা অপকর্ম করেছে তারা খেসারত দেয় নাই, তারা কিন্তু আমাদের আশে-পাশে আরো বলিয়ান হওয়ার চেষ্টা করছে। এটা (২১ আগস্টের ঘটনা) বাংলাদেশের ভাবনা থেকে হয় নাই, এই ভাবনার পরিকল্পনা অন্য কোথাও বাস করে। তবে এটাও ঠিক, এই গ্রেনেড হামলায় যারা সম্পৃক্ত তারা ভিকটিম হয় নাই, আসামি হয় নাই। এখানে আমাদেরও ব্যর্থতা আছে। আর সরকার সেই পারপাসটা ভালো করে আমাদের ওপরে চাপিয়ে দিতে পারছে। অর্থাৎ শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পরে যদি চিন্তা করতেন, চেষ্টা করতেন, তিনি খুব ভালো করে জানেন যে ঘটনাটা কেন ঘটেছিল এবং কারা ঘটিয়েছিল। এতদিনে তার অজানা থাকার কথা নয়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন,২১ আগস্টের ঘটনার দিনটি ‘ভালো দিন নয়’ অভিহিত করে ওই সময়ে সেপ্টেম্বরে ভারতীয় টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারের বক্তব্য উল্লেখ করে গয়েশ্বর চন্দ্র বলেন, এই দিনটি কোনো ভালো দিন আমি বলি না। এটা কোনো রাজনৈতিক দলের জন্যই কারো জন্য কাম্য নয়। দুই শতাধিক আসন নিয়ে তখন বিএনপি ক্ষমতাসীন। একটা স্টেবল গভার্মেন্ট ক্ষমতাসীন সরকার কখনোই চাইবে না সেই সরকারকে আনস্টেবল করতে। ২১ আগস্টের ঘটনাটা রাষ্ট্রকে আনস্টেবল করা, উস্কানি দেয়া, সুড়সুড়ি দেয়া অর্থাৎ সরকারকে বিব্রত করা দেশে-বিদেশে সকল ক্ষেত্রে।

সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটা যদি প্রতিষ্ঠিত হতো, এটা যদি জনগণ বিশ্বাস করতে পারতো যে, এটা সরকার করেছে অথবা খালেদা জিয়া করেছে বা তারেক রহমান করেছে তাহলে সেদিন সরকার থাকার কথা না। যখন একটা পাতা নড়েনি, একটা আওয়াজ হয়নি, বিশ্বশক্তি বুঝলো যে, পিপলস হেজ দেট এক্সসেকটেড দিস ওকারেন্স। অর্থাৎ এটা জনগণের মাঝে বোঝা হয়ে গেছে যে, এই অপকর্ম সরকার করতে পারে না, একটা গণতান্ত্রিক সরকার করতে পারে না, এটা একটা রেন্সপনসেবল গভার্মেন্ট কোনো মতেই করতে পারে না?

এটাই আমি ভারতীয় টেলিভিশনে সেদিন বলছিলাম।

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে গয়েশ্বর বলেন, এগিয়ে চলো, আমরা আছি তোমার সাথে আরও জোরে। এসব আপনাদের শ্লোগানে মধ্যে রাজনৈতিক আদর্শগত কি তথ্য জনগণের কাছে আপনারা দেন। আপনাদের শ্লোগানে তো জনগণের ভাষা নাই।

“ইনভেস্টিগেশন নিউজ বিডি”

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button