জাতীয়

মেজর সিনহাকে গুলি করার এক দুই মিনিটে কি ঘটেছিল?

ইনভেস্টিগেশন রিপোর্ট :
21 August, 2020
প্রকাশের সময় : রাত,09:06 pm
আপডেট : রাত,09:10 pm

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় রিমান্ডে থাকা তিন আসামি বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী ও এসআই নন্দদুলাল রক্ষিতকে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কের ঘটনাস্থল বাহারছড়ার শামলাপুর চেকপোস্টে নিয়েছে র‍্যাব।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাওয়া র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) তোফায়েল মোস্তফা সারওয়ার বলেন, মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদকে গুলি করার ঘটনা দুই মিনিটের মধ্যেই ঘটে। সেই এক দুই মিনিটের মধ্যে কি এমন ঘটেছিল? কেন তাকে গুলি করা হলো? সে প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে।

শুক্রবার (২১ আগষ্ট) বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে টেকনাফের শামলাপুর চেকপোষ্ট এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

দুপুর ১ টার পর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহার হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান ৩ আসামি বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী ও এসআই নন্দদুলাল রক্ষিতকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান র‌্যাবের তদন্তকারী কর্মকর্তা।

গুলি করার ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা শুনতেই তাদের ঘটনাস্থলে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মারিশবুনিয়া পাহাড়ে ভিডিওচিত্র ধারণ করে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকার নীলিমা রিসোর্টে ফেরার পথে শামলাপুরের এই তল্লাশি চৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

ইতিমধ্যে র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, টেকনাফ থানার বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী ও এসআই নন্দদুলাল মেজর (অব.) সিনহা হত্যায় কে কতটুকু দায়ী তা নির্ণয়ে প্রধান অভিযুক্তদের ঘটনাস্থলে নিয়ে যায় মামলার তদন্ত সংস্থা র‌্যাব। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া আসামিদের বক্তব্যের সঙ্গে আলামতগুলো মিলিয়ে দেখতে তাদের ঘটনাস্থলে নেয়া হয়। ইতিমধ্যে ঘটনা সম্পর্কে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা একটি পরিস্কার তথ্যচিত্র পেয়েছেন।

র‌্যাব কর্মকর্তা তোফায়েল মোস্তফা সারওয়ার বলেন, আসামিদের সঙ্গে কথা বলে এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, সিনহা হত্যা এক থেকে দুই মিনিটে সংগঠিত হয়েছে। এ অল্প সময়ে এমন কি ঘটেছিল তা জানতে এ সময়ে গাড়ি চেক করা, পরিচয় জানতে চাওয়া, কোন অবস্থার প্রেক্ষিতে গুলিটা হয়েছিল তা বের করতে প্রতিটা সেকেন্ডকে বিশ্লেষণ করছি আমরা। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের দেখানো মতে সব কিছু খুঁটিয়ে দেখেছেন। এক থেকে দুই মিনিটে ফায়ারিং পর্যন্ত চলে যাওয়ার ঘটনা কোন প্রেক্ষিতে হয়েছে তা বুঝতে চেকপোস্ট থেকে চেকিং পয়েন্ট, বেরিকেড থেকে গাড়ির দূরত্ব, প্রত্যক্ষদর্শীদের দূরত্ব সব কিছু পরিমাপ করেছেন। এর মাধ্যমে তদন্ত কর্মকর্তা তার কনসেপ্ট ডেভেলপ করবেন।

র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) তোফায়েল মোস্তফা সারওয়ার বলেন, যেহেতু এটি সেনসিটিভ বিষয় তাই হুট করে কিছু বলা যাবে না। আমরা ডিটেইলসে যাচ্ছি। কেন ফায়ারিং হয়েছে তা তুলে আনার চেষ্টা করছি। আসামি লিয়াকতের কথা যদি সত্যি হয় তবে কি ঘটনায় সিনহা পিস্তল তাক করলো, এবং লিয়াকত গুলি করলো সব বিষয় বের করার চেষ্টা করছি। তবে অনেক কথা তদন্তের স্বার্থে বলা সম্ভব হচ্ছেনা।

র‌্যাবের একটি সূত্র জানায়, ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জিজ্ঞাসাবাদে সিনহা হত্যাকাণ্ডের দায় চাপাতে চেয়েছেন লিয়াকতের ওপর। তবে ঘটনার আগে ও পরে লিয়াকতের সঙ্গে তার ফোনকলের অডিও রেকর্ড শোনানো হলে চুপসে যান প্রদীপ। পরে লিয়াকত ও প্রদীপকে সামনাসামনি এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

তখন দুজনই ঘটনায় নিজেদের সংশ্নিষ্টতা নিয়ে বিস্তারিত বিবরণ দেন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে। সেসব বিষয় প্রত্যক্ষ করাতে সিনহা হত্যা মামলার তিন শীর্ষ আসামি প্রদীপ কুমার দাশ, লিয়াকত আলী এবং এসআই নন্দদুলাল রক্ষিতের রিমান্ডের চতুর্থ দিনে তাদের ঘটনাস্থলে নেয়া হয়। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

“ইনভেস্টিগেশন নিউজ বিডি”

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button