শিক্ষা ও সংস্কৃতি

চার দফা দাবিতে দপ্তরিদের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ঘেরাও

ইনভেস্টিগেশন রিপোর্ট :
সোমবার :২৪ আগস্ট :২০২০
৯ ভাদ্র :১৪২৭
৪ মহররম :১৪৪২ হিজরি
০৪:০৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

চাকরি জাতীয়করণ, বেতন বৈষম্য নিরসনসহ চার দফা দাবিতে মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দফতরি-কাম প্রহরীরা। সোমবার (২৪ আগস্ট) বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্মচারী কল্যাণ সমিতির ব্যানারে এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

আন্দোলকারীরা জানান, সারাদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৭ হাজার দপ্তরি কাম প্রহরী নিয়োগ দেয়া হয়। সরকারি বিদ্যালয়ে চাকরি করেও আমরা ন্যায্য বেতন-ভাতা পাচ্ছি না। অমানবিক ও নজিরবিহীনভাবে আমাদের দিনে দাপ্তরিক কাজ ও রাতে প্রহরার দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ২০১৩ সালে এ পদে নিয়োগের পর থেকে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

তারা জানান, দপ্তরী কাম প্রহরী পদটি রাজস্ব খাতে স্থানান্তর, হাইকোর্টে দাখিলকৃত অধিদপ্তরের দেওয়া জবাব মোতাবেক কর্মঘন্টা নির্ধারণ, বেতন বৈষম্য নিরসন, কাজের ধরণ নির্ধারণ ও অবিলম্বে হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়নের সারা দেশ থেকে একত্রিত হয়ে অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।

আন্দোলনকারীরা জানান, আমাদের কোন সাপ্তাহিক ছুটি নেই, নানাবিধ সমস্যার কারণে এবং চাকরি জাতীয়করণের জন্য ২০১৭ সালে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করি। চলতি বছর ৩০শে জুলাই আদালতের রায় আমাদের পক্ষে আসলেও এ বিষয়ে অধিদফতর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আমরা বাধ্য হয়ে দেশের সকল জেলা থেকে দপ্তরী কাম প্রহরী একত্রে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি।

প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্মচারী কল্যাণ সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন সরদার জানান, সারাদেশে ৩৭ হাজার দপ্তরি কাম প্রহরীদের ওপর অমানবিক নির্যাতন করা হচ্ছে। নিয়োগের পর থেকে বিদ্যালয়ের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কাজ, টয়লেট পরিষ্কার, বাগান পরিষ্কার, দাপ্তরিক কাজসহ অনেককে প্রধান শিক্ষকের বাড়িতে গিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। রাতে আবার বিদ্যালয় পাহারার কাজ করতে হয়। বিদ্যালয়ে চুরি হলে আমাদের জরিমানা দিতে হয়। এ পর্যন্ত অনেককে চুরি হওয়ার জন্য জরিমানা দিতে হয়েছে।

তিনি জানান, আমরা দায়িত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করলেও আমাদের রাজস্ব খাতে নেয়া হচ্ছে না, কর্মঘণ্টা নির্ধারণ না হওয়ায় প্রায় ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে হচ্ছে। সপ্তাহে একদিনও আমরা ছুটি পাই না। এসব কারণে বাধ্য হয়ে আমরা অধিদফতর ঘেরাও করতে বাধ্য হয়েছি। দাবি বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

“ইনভেস্টিগেশন নিউজ বিডি”

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button