জাতীয়

সিনহা হত্যায় দোষ স্বীকার করে এপিবিএন সদস্যের জবানবন্দি

ইনভেস্টিগেশন রিপোর্ট :
বৃহস্পতিবার ,২৭ আগস্ট ২০২০
১২ ভাদ্র ১৪২৭,০৭ মুহাররম
১৪৪২ হিজরী,০৩:২৫ এএম
অনলাইন সংস্করণ

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন মামলার আসামি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) কনস্টেবল আব্দুল্লাহ।

র‍্যাপিড একশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) একটি দল বুধবার (২৬আগষ্ট) বিকাল সাড়ে চারটার দিকে এপিবিএন’র কনষ্টেবল আবদুল্লাহকে
কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালতে হাজির করে। বিকাল পৌনে পাচ’টা থেকে রাত সোয়া আটটা পর্যন্ত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জবানবন্দিতে আসামি মো. আবদুল্লাহ শামলাপুর তল্লাশি চৌকিতে সেদিন কী ঘটেছিল, নিজের দেখা ঘটনা তুলে ধরেন।

জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান কোর্ট ইন্সপেক্টর প্রদীপ কুমার দাশ।

কোর্ট ইন্সপেক্টর প্রদীপ জানান, কক্সবাজার-১৬ এপিবিএনের তিন পুলিশ সদস্যকে সিনহা হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শনিবার রিমান্ডে নিয়ে যান। তাদের তিনজনের ২৮ আগস্ট রিমান্ড শেষ হওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু এদের মধ্যে কনস্টেবল আবদুল্লাহ ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ায় তাকে বুধবার জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন।

এ মামলায় কক্সবাজারের ১৬ এপিবিএনের অপর দুই সদস্য হলেন এএসআই শাহজাহান ও কনস্টেবল রাজীব। তারা বর্তমানে ৭ দিনের রিমান্ডে র‌্যাব-১৫ হেফাজতে রয়েছেন।

গত ১৭ আগস্ট এপিবিএনের তিন সদস্যকে জিজ্ঞাসাদের জন্য নেয়া হয় র‌্যাব-১৫ কার্যালয়ে। পরের দিন ১৮ আগস্ট এ মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানালে ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

পরে শনিবার কক্সবাজার কারাগার থেকে তাদের রিমান্ডের জন্য র‌্যাব হেফাজতে নেয়া হয়।

জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক (জেল সুপার) মো. মোকাম্মেল হোসেন জানান, বর্তমানে কারাগারে ৪ পুলিশ সদস্য ও একজন এপিবিএন পুলিশ সদস্য ছাড়া সিনহা হত্যা মামলার কোনো আসামি নেই। ১৩ আসামির মধ্যে ৮ জন র‌্যাব হেফাজতে রয়েছেন। বাকি ৫ জন কারাগারে আছেন।

রিমান্ড শেষে আদালত প্রাঙ্গণে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও র‌্যাবের সহকারী পুলিশ সুপার খাইরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সিনহা হত্যা মামলার তদন্ত অনেকদূর এগিয়ে গেছে। ওসি প্রদীপসহ অন্য আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

এদিকে মামলার তদন্তকারী সূত্র জানায়, সিনহা হত্যা মামলার মোট ১৩ জন আসামি বর্তমানে দ্বিতীয় দফায় চার দিনের রিমান্ডে রয়েছে। তারা হলেন, টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলী, থানার এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত, এসআই লিটন মিয়া, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আবদুল্লাহ আল মামুন, এপিবিএন-এর তিন সদস্য এসআই মো. শাহজাহান, কনস্টেবল মো. রাজীব ও মো. আবদুল্লাহ এবং টেকনাফের মারিশবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা নুরুল আমিন, নিজাম উদ্দিন ও মোহাম্মদ আইয়াস।

বৃহস্পতিবার চার দিনের রিমান্ডের সময় শেষ হবে। এর আগে তাদের প্রথম দফায় সাত দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

“ইনভেস্টিগেশন নিউজ বিডি”

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button