জাতীয়

করোনা সংকটে বেকার হয়েছে সোয়া ৩ লাখ পোশাক শ্রমিক: বিলস

ইনভেস্টিগেশন নিউজ বিডি :
শুক্রবার : ২৮ আগস্ট ২০২০
প্রকাশের সময় : ০২:২৫ পিএম
১৩ ভাদ্র ১৪২৭
০৮ মুহাররম
১৪৪২ হিজরী
অনলাইন সংস্করণ

করোনা সংকটে ১ হাজার ৯১৫ পোশাক কারখানা বন্ধ ও লেঅফ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)।

সংস্থাটি বলছে, এতে সোয়া ৩ লাখ পোশাক শ্রমিক চাকরি হারিয়েছে।

বিলস জানায়, করোনা সংকটে কারখানা বন্ধ ও শ্রমিক ছাঁটাই না করতে সরকার মালিকদের প্রণোদনা দিলেও এর ভ্রূক্ষেপ নেই। প্রতিদিন কারখানাগুলোতে শ্রমিক ছাঁটাই চলছে। এমনকি কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানার উদ্যোগ নেয়নি তৈরি পোশাক শিল্পের মালিকরা। বিলসের করা গবেষণা প্রতিবেদনে এসব বলা হয়। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘কোভিড-১৯: তৈরি পোশাক শিল্পে শোভন কাজের পরিস্থিতি পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনের গবেষণার এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

বিলসের ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ-স্কপ এর যুগ্ম সমন্বয়কারী নইমুল আহসান জুয়েল।

এতে বলা হয়, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ১৭টি লক্ষ্যের মধ্যে ৮ নম্বর লক্ষ্য সবার জন্য শোভন কাজ নিশ্চিত করা। আর সেই লক্ষ্য অর্জনে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্র উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকার নানা পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। দেশীয় কর্মসংস্থানের প্রায় ৬৫ শতাংশ পূরণ করেছে পোশাক খাত। দেশের রপ্তানী আয়ের ৮১ শতাংশ আসে এ খাতের শ্রমিকদের পরিশ্রমে। কিন্তু বছর বছর প্রবৃদ্ধির হার ঊর্ধমুখী হলেও পোশাক শ্রমিকদের জীবনমান নিম্নমুখী।

তাদের অভিযোগ, শ্রমিকদের মজুরি না পাওয়া, সরকার ঘোষিত প্রণোদনা পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা, কারখানা খোলা ও বন্ধ রাখার বিষয়ে বিভ্রান্তিকর সিদ্ধান্তের কারণে এই শিল্পের শ্রমিকরা সীমাহীন দূর্ভোগের শিকার হয়। এ ছাড়া আবাসস্থল সংকট, বিনা নোটিশে শ্রমিক ছাঁটাই, লেঅফ ঘোষণা করা হচ্ছে। করোনা প্রাদুর্ভাবের সময় সামাজিক দুরত্বকে তুচ্ছ করে শ্রমঘন এলাকাগুলোতে বেতন আদায়ের জন্য শ্রমিকরা নিয়মিত বিক্ষোভ করছেন। লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে নানা বিপর্যয়ের মধ্যে বেড়েছে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের হার। ৮৭টি কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছে সাড়ে ২৬ হাজার শ্রমিক। আইন না মেনেই এসব ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকরা বকেয়া বেতন-ভাতা ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন না। করোনাকালীন সংকটে এই খাতে বেকার হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ২৪ হাজার ৬৮৪ জন শ্রমিক এবং বন্ধ ও লেঅফ হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৯১৫টি কারখানা। এ ছাড়া দিন দিন সারা বিশ্ব প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে পড়ার কারণে নিশ্চিতভাবে পোশাক খাতেও বাড়বে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার। এতে এ খাতে কর্মরত ৬০ শতাংশ শ্রমিকের চাকরি হারানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিলসের গবেষণাটি মার্চের শেষ থেকে আগস্টের ১৫ তারিখ পর্যন্ত সময়ে ঢাকা ও এর আশপাশের পোশাক কারখানার তথ্য নিয়ে করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের নেতারা বলেন, গণমাধ্যমে যে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের সংবাদ আসে প্রকৃতপক্ষে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি।

যেসব কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন রয়েছে সেসব কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে অভিযোগ করেন তারা।

তারা বলেন, লে অফ অফ শ্রমিক ছাঁটাই আইনত নিষিদ্ধ হলেও মালিকরা সেটি করে যাচ্ছে। সরকারও নৈতিকভাবে মালিকদের এ কাজে সমর্থন করে। কিন্তু শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার আইনি অধিকার থাকলেও একাজে সরকার সমর্থন দেয় না। পোশাক খাতে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানান ট্রেড ইউনিয়ন নেতারা।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, বিলস এর ভাইস চেয়ারম্যান আমিরুল হক আমিন, ইন্ডাস্ট্রি অল বাংলাদেশ কাউন্সিল-আইবিসি সাধারণ সম্পাদক চায়না রহমান, ইন্ডাস্ট্রি অল বাংলাদেশ কাউন্সিল টঙ্গী-গাজীপুর ক্লাস্টার কমিটির সমন্বয়কারী সালাউদ্দিন স্বপন, বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ওয়ার্কার্স সলিডারিটির সভাপতি রুহুল আমিন, বাংলাদেশ মুক্ত শ্রমিক ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ বাদল এবং বিলস পরিচালক নাজমা ইয়াসমীন।

সুত্র-পিএনএস/এএ

“ইনভেস্টিগেশন নিউজ বিডি”

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button