আন্তর্জাতিক

দিল্লির দাঙ্গায় মুসলিম নির্যাতনের ভূমিকা ছিলো পুলিশের: অ্যামনেস্টি

ইনভেস্টিগেশন নিউজ বিডি :
শনিবার : ২৯ আগস্ট ২০২০
প্রকাশের সময় : ০৪:১২ এএম
১৪ ভাদ্র ১৪২৭,০৯ মুহাররম
১৪৪২ হিজরী
অনলাইন সংস্করণ

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির দাঙ্গায় মুসলিমদের বাড়ি-ঘরে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং হত্যাকাণ্ডে দেশটির পুলিশের সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। দিল্লির ধর্মীয় এই দাঙ্গায় ‘পুলিশ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন’ করেছে বলে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি।

ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ থেকে শুরু হওয়া দিল্লির ওই দাঙ্গায় অন্তত ৫৩ জনের প্রাণহানি ঘটে; যাদের বেশিরভাগই সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, প্রতিবাদকারীদের মারধর, আটককৃতদের নির্যাতন এবং হিন্দুদের সঙ্গে দাঙ্গায় সক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট ছিল পুলিশ। এই দাঙ্গায় মুসলিমরা ব্যাপক ভোগান্তি ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।

অ্যামনেস্টি এই প্রতিবেদনে ব্যাপারে দিল্লি পুলিশের মন্তব্য পাওয়া

গত ফেব্রুয়ারিতে দিল্লির দাঙ্গায় পুলিশের সংশ্লিষ্টতা ও নিষ্ঠুর অভিযান নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। অ্যামনেস্টির তদন্তে বিবিসির প্রতিবেদনের উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও ওই সময় দাঙ্গায় পুলিশ সদস্যদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেছিল দিল্লি পুলিশ।

তদন্ত প্রতিবেদনে অ্যামনেস্টি বলছে, দিল্লির দাঙ্গায় হিন্দুরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন; তবে দাঙ্গার মূল টার্গেট ছিলেন মুসলিমরা।

দাঙ্গা স্বতঃস্ফূর্তভাবে হয়েছিল বলে মনে হয় না। কারণ এতে হতাহতের সংখ্যা হিন্দুদের তুলনায় তিনগুণ বেশি হয়েছে মুসলিমদের। এছাড়াও মুসলিমদের ব্যবসা এবং সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন গত বছর পার্লামেন্টে পাস হওয়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ-সহিংসতা শুরু হয়। সমালোচকরা নাগরিকত্ব সংশোধনী এই আইনকে মুসলিমবিরোধী বলে আখ্যা দিয়ে দেশটির সরকারের সমালোচনা করেছেন।

দেশজুড়ে নাগরিকত্ব আইনবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হলেও দিল্লিতে তা দাঙ্গায় রূপ নেয়। আইনটির পক্ষে এবং বিপক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাতের মাধ্যমে দ্রুত তা ধর্মীয় দাঙ্গায় পরিণত হয়। প্রায় তিন দিন ধরে চলা নারকীয় তাণ্ডবে দিল্লিতে মুসলিমদের বাড়ি-ঘর দোকানপাট ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও মারধরের ঘটনা ঘটে।

ওই সময় ধারণকৃত সহিংসতার ভিডিও ফরেনসিক বিশ্লেষণে অ্যামনেস্টি দেখতে পায়, দাঙ্গার সমর্থনে মুসলিমদের বাড়ি-ঘর ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও মুসলিমদের মারধরে উত্তেজিত হিন্দুদের সহায়তা করেছে পুলিশ। মুসলিমদের বিরুদ্ধে এ ধরনের সহিংসতা চললেও নীরব ভূমিকা পালন করেছে তারা।

শুধু তাই নয়, ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী নেতারাও দাঙ্গায় উসকানি দিয়েছেন বলে অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে। অনেকে এই হিন্দু নেতাদের সমালোচনা করলেও পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি।

সেই সময় মার্কিন প্রভাবশালী দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বলা হয়, দিল্লির দাঙ্গায় অন্তত তিনটি মসজিদে অগ্নিসংযোগ করেছে পুলিশ। সহিংসতা বন্ধের চেষ্টা না করে উন্মত্ত জনতার সঙ্গে যোগ দিয়ে জয় শ্রী রাম বলে স্লোগান দিচ্ছিল পুলিশ সদস্যরা। একই সঙ্গে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় তারা।

দিল্লির উপকণ্ঠে ফারুকিয়া নামের একটি ছোট মসজিদের দেখাশুনা করেন মোহাম্মদ আব্বাস (৮৫)। তিনি ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছিলেন, দাঙ্গার দ্বিতীয় দিনে নামাজের পর একদল পুলিশ কর্মকর্তা মসজিদের ইমাম এবং তার ওপর হামলা চালায়। তিনি বলেন, পুলিশ সদস্যরা তাকে দেশদ্রোহী বলে গালাগালি দিচ্ছিল।

তার চোখের সামনেই ওই পুলিশ সদস্যরা মসজিদ ভাংচুর করেছেন এবং আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন বলে জানান তিনি। এরপরই সেখান থেকে মোহাম্মদ আব্বাসকে একটি হাসপাতালে নেয়া হয়। সে সময় তার সারা শরীর রক্তাক্ত ছিল। তিনি বলেন, তারা আমাকে নির্দয়ভাবে পিটিয়েছে। আমার ভাত ভেঙে গেছে।

সন্দেহভাজন উসকানিদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পরিবর্তে পুলিশ মানবাধিকার কর্মী, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গণহারে গ্রেফতার করেছে; যাদের বেশিরভাগই মুসলিম। দিল্লির এই দাঙ্গা স্বতন্ত্রভাবে তদন্তের পরামর্শ দিয়েছে অ্যামনেস্টি।

সুত্র-পিএনএস/এএ

“ইনভেস্টিগেশন নিউজ বিডি”

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button