আন্তর্জাতিক

আইএস নেতাকে বিয়ে করেছিলাম,গার্ডিয়ানকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তানিয়া!

ইনভেস্টিগেশন নিউজ বিডি :
মঙ্গলবার : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
প্রকাশের সময় : ০২:০৪ এএম
২৪ ভাদ্র ১৪২৭ : ১৯ মুহাররম
১৪৪২ হিজরী : অনলাইন সংস্করণ

জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এর শীর্ষস্থানীয় এক নেতার সাবেক স্ত্রীকে নিয়ে পশ্চিমা বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানকে দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তানিয়া জয়া নামের সেই ব্রিটিশ নারী। না জেনেই ওই আইএস নেতাকে বিয়ে করেন বলে জানান তানিয়া। তানিয়া ব্রিটেনে এক বাংলাদেশি পরিবারে বেড়ে উঠেন। ১৯৮৩ সালে উত্তর লন্ডনে এক বাংলাদেশি পরিবারে জন্ম তানিয়া জয়ার। ১৭ বছর বয়সে তানিয়া পরিবারের সঙ্গে পূর্ব লন্ডনে চলে যান। সেখানে তার জীবনের নতুন মোড় নেয়।

সেসময় বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এক বোন তানিয়ার উপর খুব বেশি প্রভাব ফেলেন। তার থেকে খেলাফত সম্পর্কে অনেক কিছু শিখেন। অনলাইনে প্রচুর সৌদি ইসলামিক ফতোয়াও পড়েন। ২০০৩ সালে লন্ডনে ইরাক যুদ্ধ বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেন তানিয়া। সেসময় একটি মুসলিম ডেটিং ওয়েবসাইটে জন জর্জেলাস নামে এক মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে পরিচয় হয় তার।

তানিয়া বলেন, ‘মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হওয়া জন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিল। সে ছিল বহুভাষী ছিল এবং খুব স্মার্ট। এমন কাউকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে পেতে চাইছিলাম আমি।’ জন প্রথম লন্ডন সফরে এলে তাকে বিয়ে করেন তানিয়া। পরিবারের অনুশাসন থেকে বাঁচতে জনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান তিনি। সেখানে তাদের প্রথম সন্তান জন্ম নেয়।

এর কিছুদিন পর জনের মধ্যে কট্টরপন্থী আচরণ দেখা দেয়। তানিয়ার স্বাধীনভাবে চলাফেরায় বাধা দিতে থাকেন স্বামী জন। ২০০৬ সালে ইসরায়েলিপন্থী লবিং গ্রুপের ওয়েবসাইট হ্যাক করার অভিযোগে তিন বছরের সাজা হয় জনের। কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে জন তিন সন্তানসহ তানিয়াকে নিয়ে কিছুদিনের জন্য মিশর ও এরপরে ইস্তাম্বুল চলে যান। তানিয়াকে জন সিরিয়ায় যাওয়ার কথা বললেও সন্তানদের নিয়ে যুদ্ধপীড়িত কোনো দেশে যেতে চাননি এ নারী। কিন্তু তুরস্কে যাওয়ার নাম করে স্ত্রী-সন্তানদের সিরিয়ার সীমান্তে নিয়ে আসে জন।

তানিয়া বলেন, মধ্যরাতে আমরা বাস ধরার পরও আমি বুঝতে পারছিলাম না কী হচ্ছে। আমি তখন পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। সূর্য ওঠার পর আমরা সিরিয়ার একটি চেকপয়েন্টে পৌঁছাই। জন তখন কোনো ধরনের আপত্তি না করার জন্য আমাকে হুমকি দেয়। সেসময় একটা ফোন খুঁজে পেয়ে শ্বশুরবাড়িতে ফোন করেন তিনি। জনের মাকে কাঁদতে কাঁদতে অনুরোধ করেন কোনো এফবিআই এজেন্টের সঙ্গে তার যোগাযোগ করিয়ে দিতে।

এদিকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাও কয়েক বছর ধরে জনের খোঁজ করছিল। এফবিআই থেকে তানিয়াকে বলা হয়, স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেলে চরমপন্থী সংগঠনে যোগ দেওয়ার অভিযোগ আনা হবে না তার বিরুদ্ধে।

তানিয়া বলেন, এফবিআইকে খবর দেয়ায় জন আমার ক্ষুব্ধ হয়। আমাকে নিয়ন্ত্রণ করতে নয়তো ছেড়ে চলে যেতে তার বন্ধুরা তাকে চাপ দিচ্ছিল তখন। একপর্যায়ে জন আমাদের ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করে।

তানিয়াকে বলেন, সিরিয়াতে আমাদের পানির কল দিয়ে কোনো পানি পাওয়া যেত না। কারণ পানির টাংকিতে গুলি চালানো হয়েছিল। আমি ও সন্তানরা পুষ্টিহীনতায় ভুগছিলাম। সারাক্ষণ সন্তান হারানোর ভয়ে থাকতাম আমি।

রাস্তা অবরোধ ও সংঘর্ষের কারণে তিন সপ্তাহ পর সন্তানদের নিয়ে রওনা দেন তানিয়া। কয়েক মাইল হেঁটে স্নাইপারদের গুলির মুখে ট্রাকে চড়েন। এমনকি যে লোকটি তাদের বাস স্টেশনে যাওয়ার কথা ছিল, সেও তাদের মাঝপথে রেখে চলে যায়। পরে একজন তুর্কি লোক তাদের সহযোগিতা করেন।

তানিয়া বলেন, সন্তানদের নিয়ে বেঁচে ফিরে আসতে পারায় আমি কৃতজ্ঞ। আমার সন্তানরা ভালো জীবন কাটাবে, সুস্থ পৃথিবীতে ফিরে আসবে এবং এই পৃথিবীকে কিছু দেবে-এটাই আমি চেয়েছিলাম।

যুক্তরাষ্ট্রের ফিরে আসার পর জনের সঙ্গে আর যোগাযোগ হয়নি তানিয়ার। সিরিয়ায় তিনি আরেকটি বিয়ে করেন বলে জানা যায়। গড় বছর তিনি খবর পান জন মারা গেছে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের কাউন্টার-এক্সট্রিমিজম গ্রুপ ‘ফেইথ ম্যাটার্স’ এর সঙ্গে কাজ করছেন তানিয়া। আবার বিয়ে করে টেক্সাসেই থাকছেন তিনি। তানিয়া বলেন, আমার বর্তমান স্বামী আমার প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও দায়িত্বশীল। আমি আমার স্বাধীনতা ভালোবাসি।

দ্য গার্ডিয়ানকে তিনি বলেন, শিক্ষাই হলো চরমপন্থা থেকে দূরে থাকার মূল চাবিকাঠি। আমি অনেক পড়েছি, নিজেকে শিক্ষিত করেছি। শান্তিতে থাকার জন্য অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। ভিন্ন মত ও ধারণার মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার মূল্যবোধ থাকতে হবে। এটা বোঝা অনেক জরুরি।

সুত্র : পিএনএস/জে এ
“ইনভেস্টিগেশন নিউজ বিডি”

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button